Mamata Banerjee: পাওনা টাকা আনতে দিল্লি গিয়েছিলাম, সেটিং হয়ে গেল!
অনুব্রত মণ্ডলরে গ্রেফতারে কথা টেনে মমতা বলেন, পরশু কেষ্টোকে গ্রেফতার করলেন কেন? কী করেছিল কেষ্টো? যতবার ভোট হয়েছে ততবারই ওকে ঘরবন্দি করে রেখেছেন। কখনও বের হতে দেননি
জি ২৪ পরগনা ডিজিটাল ব্যুরো: অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাড়ায় গিয়ে কেন্দ্র ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারের কথা উল্লেখ না করে মমতা বলেন, কোনও বিষয় যখন বিচারাধীন থাকে তখন আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আইন আইনের পথে। কেঁচো খুঁড়তে গোখরো বেরিয়ে পড়বে। অন্যায়কে সমর্থন না করেও বলছি ব্যাঙ্কগুলো লুট হয়ে গেল। আজ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কি রয়েছে? বাক স্বাধীনতা রয়েছে? এই দেশটা আমাদের গর্ব। কারও দয়ায় চলি না। সব বিরোধী দলের মুখ যদি বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে কি বলব আমাদের বাক স্বাধীনতা রয়েছে? সত্যিই যদি কেউ এজেন্সি করে তাহলে আমার কোনও আপত্তি নেই। আইন আইনের পথেই চলবে।
আরও পড়ুন-মেয়ের নামেও বিপুল সম্পত্তি, এবার অনুব্রত-তনয়া সুকন্যাকেও জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের!
বিরোধীদের নিশানা করে মমতা বলেন, সিপিএমের লোকগুলোকে দেখুন জগাই মাধাই। আমারা এগারো সালে বলেছিলাম বদল চাই বদলা চাই না। ক্ষমতায় আসার পর অশান্তি চাইনি বলে গায়ে হাত দিতে চায়নি। এখন যদি ফাইলগুলি খুলি তাহলে সব বের হবে তো সূর্যবাবু! ঝুলি থেকে বেড়াল বের হবে! কী মিস্টার চৌধুরী! কত মার্ডার কত খুন! বের করব একটু? তৃণমূলকে বদনাম করতে হবে? মধ্যরাতে ঢুকে বাড়িতে তাণ্ডব করছে। কেষ্টোর বাড়িতে তাণ্ডব করেছে। রাজনৈতিকভাবে ৩৪ বছর সিপিএমের সঙ্গে লাড়াই করে এসেছি। এখন বিজেপির সঙ্গে লড়াই করছি। দিল্লি গেলেই বলবে সেটিং করতে গিয়েছে। আরে! নীতি আয়োগের মিটিংয়ে আমি যাব না? আমার রাজ্যের কথা বলব না? টাকাটা আসবে কোথা থেকে? এটা কি ওদের নাকি। এটা আমাদের এখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া টাকা। এখানে থেকে যে টাকা তুলে নিয়ে যায় তার ৩০ শতাংশ দেয়। একশো দিনেক কাজের লোকেরা গত ৭ মাস টাকা পায় না। কই বিজেপির নেতারা? ভাষণ তো কম নেই। তোমাদের সীতারাম ইয়েচুরিও তো গিয়েছিলেন! তখন সেটিং হয় না? বিজেপির কাছে ভিক্ষে করতে যাইনি। আমাদের পওনা টাকা আনতে গিয়েছিলাম।
অনুব্রত মণ্ডলরে গ্রেফতারে কথা টেনে মমতা বলেন, পরশু কেষ্টোকে গ্রেফতার করলেন কেন? কী করেছিল কেষ্টো? যতবার ভোট হয়েছে ততবারই ওকে ঘরবন্দি করে রেখেছেন। কখনও বের হতে দেননি। কেষ্টোকে জেলে আটকালে কী হবে। গত ২ বছর ও কষ্ট পাচ্ছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ও একদিন বলল, ওর অসুস্থ বউ ওকে বলেছে আমাকে দেখতে হবে না। তুমি ভোটের কাজ করো। ওদের এসেন্সি রয়েছে। ওরা প্রথমে আপনার বদনাম করে। পরে দেখা গেল কেসে কিছু হল না। মিডিয়া বলছে, সূত্র বলছে এতো টাকা পাওয়া গিয়েছে, এত গোরু পাওয়া গিয়েছে। সূত্রটা কী? সূত্র কি মলমূত্র! অনেক তো এসেন্সি হল! আপনারা শুনেছেন এজেন্সি এটা করেছে, ওটা করেছে। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। দেখিয়ে তো দিলাম। ঝাড়খণ্ডে সরকার ভাঙার জন্য ১০ কোটি টাকা দিচ্ছিলে। হাতেনাতে তো ধরেছি। যে তিনজন এমএলএ গ্রেফতার হয়েছে তারাই বলে দিয়েছে। মহারাষ্ট্রে সরকার ভেঙেছ, ঝাড়খণ্ড ভাঙার চেষ্টা করছিল। আমাদের কাছে খবর আসতেই আমরা টাকার বস্তাগুলো চেপে ধরেছি। বিজেপি রাগ করবে বলে টিভিতে দেখানে হয় না।