SSC Scam: ভালো শিক্ষক; কাজে ফাঁকি ছিল না, এমন দুর্নীতিতে জড়িত ভাবতেই পারছেন না জীবনকৃষ্ণের প্রাক্তন সহকর্মীরা
SSC Scam:বিধায়ক হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন জীবন পাশাপাশি, টাকার বিনিময় চাকরি দেওয়ার চক্রে জড়িয়ে পড়েন। চাকরির ধরন অনুযায়ী রেট বেঁধে দিয়েছিলেন। এভাবেই কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন জীবনকৃষ্ণ। এমনটাই সূত্রের খবর
প্রসেনজিত্ মালাকার: টানা ৬৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ছাড়াও গোরুপাচার কাণ্ডেও তিনি জড়িত বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। কিন্তু তাঁদের এক সহকর্মী এমন কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে ভাবতেই পারছেন নানুরের দেবগ্রাম হাইস্কুলে জীবনকৃষ্ণের প্রাক্তন সহকর্মীরা।
আরও পড়ুন-অবশেষে স্বস্তি, দক্ষিণবঙ্গের ৪ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা শোনাল হাওয়া অফিস
দেবগ্রাম হাইস্কুলে বাংলার শিক্ষক ছিলেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। তবে অনেক আগেই ট্রান্সফার নিয়ে চলে গিয়েছেন। ভালো শিক্ষক, সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল জীবনবাবুর। তিনিই কিনা এমন দুর্নীতির সহ্গে জড়িত! শিক্ষকতার সূত্র ধরেই জীবনকৃষ্ণের সঙ্গে আলাপ হয় অনুব্রত মণ্ডলের। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পতিপত্তি বৃদ্ধি হয়েছিলে দেবগ্রাম হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষকের। যতদিন শিক্ষকতা করেছেন ততদিন তাঁর কাজে কোনও খামিত ছিল না। নিয়মিত স্কুলে আসতেন। কখনও বাইকে, কখনও চার চাকা নিয়ে। পরে স্কুল থেকে ট্রান্সফার নিয়ে নেন। এমনটাই বলছেন স্কুলের শিক্ষকরা।
বিধায়ক হয়ে যাওয়ার পর মাধে মধ্যেই স্কুলে আসতেন জীবনবাবু। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শ্য়ামা রতন ও ম্য়ানেজিং কমিটির সভাপতি বিজয় সাহাদের বক্তব্য, কোনও খারাপ কিছু দেখিনি ওঁর মধ্যে। ব্যবহারও খুব ভালো ছিল। এখন এসব টিভিতে দেখছি।
জীবন কৃষ্ণ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তার একাধিক সম্পত্তির হদিস পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার। এরকম এক পরিস্থিতিতে তৃণমূল বিধায়ক সম্পর্কে তাঁর বাবার দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। এমনকি আমার ব্যবসার নানা ভাবে ক্ষতি করতে চেয়েছে ছেলে। মিড ডে মিলের লাইসেন্স করতে গেল সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। ছেলে যদি দুর্নীতি করে থাকে তাহলে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। এনিয়ে আমার কিছু বলার নেই। এত পরিমাণ সম্পত্তি ও কীভাবে করল তা তার জবাব ওই দেবে।
সিবিআই সূত্রে খবর বিধায়ক হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন জীবন পাশাপাশি, টাকার বিনিময় চাকরি দেওয়ার চক্রে জড়িয়ে পড়েন। চাকরির ধরন অনুযায়ী রেট বেঁধে দিয়েছিলেন। এভাবেই কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন জীবনকৃষ্ণ। এমনটাই সূত্রের খবর। সেইসব বিপুল টাকা কোথায় তা নিয়েই জেরা করতে চায় সিবিআই। এদিকে জীবনকৃষ্ণের বাবার নামে আলুর স্টোর, চালের ডিস্ট্রিবিউটারশিপ-সহ আরও কিছু ব্যবসা রয়েছে। এদিকে তার বাবা বলছেন ছেলের ব্যাপারসাপার জানি না।