GT vs CSK, IPL 2023: শুভমন-রাশিদের দাপটে ধোনির চেন্নাইকে হারিয়ে অভিযান শুরু করল হার্দিকের গুজরাত
ফিল্ডিং করার সময় গুজরাত শিবিরের জন্য আরও উৎকণ্ঠা বয়ে এনেছিলেন কেন উইলিয়ামসন। রুতুরাজের বাউন্ডারি আটকাতে গিয়ে হাঁটুতে মারাত্মক চোট পান কিউয়ি তারকা। তাঁকে রীতিমতো ধরে ধরে মাঠ থেকে বার করে আনা হয়। পরে তাঁর পরিবর্ত হিসাবে সাই সুদর্শন।
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চলতি আইপিএল-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই চেন্নাই সুপার কিংসকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দিল গুজরাত টাইটান্স। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল ২০২২ সালে দু'বার মহেন্দ্র সিং ধোনির সিএসকে-কে হারিয়েছিল। ফের একবার দাপট দেখিয়ে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে জয়ের হ্যাটট্রিক করল হার্দিক পান্ডিয়ার দল। ব্যাটে যেমন শুভমন গিল নজর কাড়লেন, তেমনই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে ফের নিজের জাত চেনালেন রাশিদ খান। ফলে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দুরন্ত ইনিংস কিংবা তরুণ পেসার রাজ্যবর্ধন হাঙ্গারকারের (৩৬ রানে ৩ উইকেট) জলে গেল। কারণ চার বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে ১৮২ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায় গুজরাত।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে আগ্রাসী মেজাজেই শুরু করেছিলেন শুভমন গিল ও ঋদ্ধিমান সাহা। মারমুখী ভঙ্গিতে ব্যাট চালিয়ে দ্রুত রান তুলতে শুরু করে দেন ঋদ্ধি। ফলে চোখের নিমেষে প্রথম উইকেটে ৩৭ রান তুলে দেয় গুজরাত। তবে সেখানেই প্রথম ছন্দপতন। বিপক্ষের রাজ্যবর্ধন হাঙ্গারকারকে মারতে গিয়ে থার্ড ম্যানে থাকা শিবম দুবে-কে ক্যাচ দিয়ে বসেন পাপালি। ফলে তাঁকে ১৬ বলে ২৫ রান করেই থেমে যেতে হয়। মারলেন দুটি চার ও দুটি ছক্কা।
ফিল্ডিং করার সময় গুজরাত শিবিরের জন্য আরও উৎকণ্ঠা বয়ে এনেছিলেন কেন উইলিয়ামসন। রুতুরাজের বাউন্ডারি আটকাতে গিয়ে হাঁটুতে মারাত্মক চোট পান কিউয়ি তারকা। তাঁকে রীতিমতো ধরে ধরে মাঠ থেকে বার করে আনা হয়। পরে তাঁর পরিবর্ত হিসাবে সাই সুদর্শন। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার করে নামায় গুজরাত। সেই ছক কাজেও লেগে যায়। ১৭ বলে ২২ রান করেন সাই। এদিকে ৯০ রানে ২ উইকেট চলে গেলেও, বিস্ফোরক ব্যাটিং করছিলেন শুভমন। তাঁর ক্রিজে থাকার সময় মনে হচ্ছিল চেন্নাইকে হেলায় হারিয়ে দেওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ১৫ ওভারে শুভমনকে ফিরিয়ে সিএসকে-কে ফের ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তুষার দেশপাণ্ডে। ফলে ৩৬ বলে ৬৩ রান করে ফিরে যান শুভমন। তাঁর ইনিংস ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা দিয়ে সাজানো ছিল। মাঝের দিকে হার্দিক, বিজয় শঙ্কর ফিরে গেলেও, গুজরাতকে বাড়তি চাপ নিতে হয়নি। কারণ বোলিংয়ের পর ঝড়ো ব্যাটিং করে দলের জয় নিশ্চিত করেন রাশিদ খান। রাশিদ ৩ বলে ১০ ও রাহুল তেওয়াটিয়া ১৪ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
যদিও এবারের উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রচারের আলোয় চলে এসেছিলেন রুতুরাজ। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন। ৫০ বলে ৯২ রান করলেন তিনি। মারলেন ৪টি চার ও ৯ ছক্কা। রুতুরাজের ব্যাটের শাসনে ষোড়শ আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ধোনির সিএসকে তুলে দিয়েছিল ৭ উইকেটে ১৭৮ রান।
এদিন বল হাতে শুরুটা ভালোই করেছিল গুজরাত। শুরুতেই ডেভন কনওয়ের স্টাম্প ছিটকে দেন মহম্মদ শামি। যিনি দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। একইসঙ্গে বিপক্ষের ওপেনারকে আউট করে, আইপিএল-এর মঞ্চে ১০০টি উইকেট নেওয়ার নজির গড়লেন 'সহেসপুর এক্সপ্রেস'। মাত্র ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় সিএসকে। তবে সেখান থেকেই ম্যাচ ঘোরাতে শুরু করেন রুতুরাজ ও অভিজ্ঞ মঈন আলি। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে ২১ বলে ৩৬ রান যোগ করেন। ১৭ বলে ২৩ রান করে ফেরেন মঈন।
যদিও রান পাননি বেন স্টোকস। ৭ রান করে আউট হন। অম্বাতি রায়ডুও মাত্র ১২ রান করে ফেরেন। শিবম দুবে ১৮ বলে ১৯ রান করেন। মাত্র ১ রান করে ফেরেন রবীন্দ্র জাডেজা। তবে ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৭ বলে একটি চার ও একটি বিশাল ছয় মেরে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন 'ক্যাপ্টেন কুল'। যদিও সিএসকে ব্যাটিংয়ের মধ্যে সেই দাপট দেখা যায়নি। রুতুরাজ ছাড়া বাকিরা ব্যর্থ হয়েছেন।
গুজরাত বোলারদের মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স করলেন রাশিদ খান। আফগান লেগস্পিনার ৪ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট নেন। দুরন্ত বোলিং করেছেন শামিও। ৪ ওভারে ২৯ রানে ২ উইকেট পেয়েছেন।