মদ্যপানের অভ্যাস কমায় স্নায়ুরোগের ঝুঁকি!

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, মদ্যপান করলে শরীর থাকবে ঝরঝরে, স্মৃতিশক্তিও থাকবে অটুট।

Updated By: Nov 29, 2018, 11:25 AM IST
মদ্যপানের অভ্যাস কমায় স্নায়ুরোগের ঝুঁকি!
--প্রতীকী চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদন: শরীর স্বাস্থের ক্ষেত্রে মদ্যপানের ক্ষতিকারক দিকগুলির কথা আমরা অনেকেই জানি। যেমন, ওজন বৃদ্ধি, কোলোনিক ফ্যাট, লিভারের নানাবিধ সমস্যা হতে পারে মদ্যপানের কারণে। তবে মদ খাওয়ার বেশ কিছু উপকারিতাও রয়েছে। অন্তত এমনটাই দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন গবেষণার রিপোর্টে।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, মদ্যপান করলে শরীর থাকবে ঝরঝরে, স্মৃতিশক্তিও থাকবে অটুট। এমনকি বয়স বাড়লেও ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্সের মতো স্নায়ুরোগও আপনার ধারে কাছে ঘেঁষবে না!

মার্কিন গবেষকরা জানিয়েছেন, যাঁরা একেবারেই মদ্যপান করেন না বা দীর্ঘদিন মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। এদের তুলনায় সপ্তাহে যাঁদের মেপে মেপে নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে, তাঁদের মধ্যে এই সব রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। কিন্তু তার জন্য গবেষকেরা মদ্যপানের একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ বেঁধে দিয়েছেন। মদ্যপানের পরিমাণ তার চেয়ে বেশি হলেই ফল হবে উল্টো। ক্ষতিগ্রস্থ হবে লিভার। গবেষকদের মতে, দিনে সর্বোচ্চ ১৭৫ মিলিলিটার মদ্যপান করা যেতে পারে। এর বেশি মদ্যপান হতে পারে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মত, মার্কিন গবেষক ডঃ লিন্ডা ম্যাকিভয়ের।

ডঃ ম্যাকিভয়ের সঙ্গে একমত ‘ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল রিসার্চ’-এর গবেষক সেভারিন সাবিয়া। সাবিয়ার জানান, সাধারণত বয়স ৬৫ পেরোলেই ডিমেনশিয়ার প্রভাব দেখা দিতে শুরু করে। ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। আমেরিকার বাল্টিমোরের ‘দ্য জন হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিন’-এর অধ্যাপক সেভিল ইয়াসার জানান, এই সমীক্ষায় যে অদ্ভুত তথ্যটি সামনে এসেছে তা হল, যাঁরা একেবারেই মদ্যপান করেন না বা দীর্ঘদিন মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। বরং যাঁরা নির্দিষ্ট মাত্রায় মদ্যপান করেন, তাঁদের ঝুঁকি এ ক্ষেত্রে অনেক কম।

১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯,০৮৭ জনের মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, যাঁরা কখনওই মদ্যপান করেননি তেমন ৩৯৭ জন ডিমেশিয়ায় আক্রান্ত। আর ডিমেশিয়ায় আক্রান্তদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। ইয়াসারের মতে, অন্যান্য অ্যালকোহলের মধ্যে ওয়াইন সবচেয়ে সুরক্ষিত। কারণ, ওয়াইনের মধ্যে থাকা পলিফেনলিক উপাদান স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এই উপাদান হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

সুতরাং, সঠিক মাত্রায় অ্যালকোহল সেবন শুধু ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্সের মতো স্নায়ুরোগ নয়, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।

.